এইচএসসি পরীক্ষা প্রথমবারের মতো কেন্দ্রে পুলিশের বডি ওর্ন ক্যামেরায় নজরদারি


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ২, ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ণ
এইচএসসি পরীক্ষা প্রথমবারের মতো কেন্দ্রে পুলিশের বডি ওর্ন ক্যামেরায় নজরদারি

নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে সারাদেশে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল থেকে একযোগে শুরু হওয়া এ পরীক্ষাকে সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে এবার সিসিটিভি নজরদারির পাশাপাশি পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে পুলিশের বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। রাজধানীর উত্তরা রাজউক মডেল কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে দেখা গেছে, দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা শরীরে বডি ওর্ন ক্যামেরা পরিধান করে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রের বাইরে মাইকে পরীক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন নির্দেশনা ও নিয়মকানুন জানানো হয়।

পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যানজটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়।

এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় মনিটরিং ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় পরীক্ষাকেন্দ্রে পুলিশের বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ প্রযুক্তির ব্যবহার ইতিবাচক ফল দিয়েছে এবং এটি অপরাধপ্রবণতা কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। শিক্ষা উপদেষ্টা আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার প্রশংসনীয় পদক্ষেপ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এসএসসি পরীক্ষায় সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারের ফলে নকলের ঘটনা প্রায় ৭৮ শতাংশ কমে আসে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবার সিসিটিভি নজরদারির পাশাপাশি বডি ক্যামেরা যুক্ত করা হয়েছে। এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছে। মোট পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে ২ হাজার ৬৯৭টি। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন পরীক্ষার্থী ১ হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। শিক্ষা প্রশাসন বলছে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে এবার পরীক্ষা আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।