
সদ্য বিদায়ী জুন মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। এ হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন মাসে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে মোট ২৮০ কোটি ৬০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। গত বছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৮২ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় সামান্য কম হলেও জুনে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল শক্তিশালী।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়ছে। ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে প্রবাসী আয় আসার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ৩৫ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৩০ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। এর আগে গত অর্থবছর রেমিট্যান্স বেড়েছিল প্রায় ২৭ শতাংশ।
রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। একই সঙ্গে ডলারের সরবরাহ বাড়ায় আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক লেনদেনে চাপ কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ২০২১ সালের আগস্টে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে অর্থপাচার, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটসহ নানা কারণে রিজার্ভ কমতে থাকে।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যায়। এরপর ধারাবাহিকভাবে কমে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় তা ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। পরে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ১০০ কোটি ডলার ঋণ যোগ হওয়ার পর রিজার্ভ আবার ৩১ বিলিয়ন ডলারের ঘর ছাড়ায়।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের শর্ত অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের হিসাব প্রকাশ করছে। ওই হিসাবে একপর্যায়ে দেশের রিজার্ভ ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবাহ দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন :