খেলাপি ঋণ কমাতে বড় সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ ব্যাংক


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
খেলাপি ঋণ কমাতে বড় সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের ব্যাংক খাতে বেড়ে যাওয়া খেলাপি ঋণ কমাতে বড় ধরনের ছাড় ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খেলাপি গ্রাহকরা তাদের ঋণের মূল অর্থ এককালীন পরিশোধ করলে দায়মুক্তি পেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ঋণের বিপরীতে জমে থাকা নির্দিষ্ট হারে সুদ আর পরিশোধ করতে হবে না।

তবে এই সুবিধা নিতে হলে ঋণগ্রহীতাদের আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে খেলাপি ঋণের মূল অর্থ পরিশোধ করতে হবে। এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করে ইতোমধ্যে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, বিশেষ এই সুবিধার ফলে সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংক তাদের খেলাপি ঋণের একটি বড় অংশ আদায় করতে পারবে। পরে সেই অর্থ নতুন ঋণ হিসেবে বিনিয়োগ ও উৎপাদন খাতে ব্যবহার করা হলে অর্থনীতিতে গতি ফিরবে।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কিছু ব্যবসায়ী। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারীরা যেখানে পুরো সুদ পরিশোধ করছেন, সেখানে খেলাপিদের সুদ মওকুফ করা হলে ভালো গ্রাহকরা নিরুৎসাহিত হতে পারেন।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, খেলাপি ঋণ আদায়ে নেওয়া এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে সঠিক বাস্তবায়নের ওপর। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর বলেন, কোনোভাবেই যেন রাজনৈতিক প্রভাব বা অপব্যবহারের মাধ্যমে কেউ অন্যায়ভাবে সুবিধা নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এই বার্তা দিতে হবে যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের সুযোগ আর দেওয়া হবে না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ না করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো জরুরি। কিন্তু খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকের সম্পদের মান, তারল্য ব্যবস্থাপনা ও নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত যেসব ঋণ ‘মন্দ ও ক্ষতিজনক’ শ্রেণিতে রয়েছে, তারা এই সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন। তবে ঋণগ্রহীতার আর্থিক সক্ষমতা, ব্যবসা পরিচালনার অবস্থা এবং ঋণ পরিশোধের আন্তরিকতা যাচাই করে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, যেসব গ্রাহক প্রকৃতপক্ষে আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন, কিন্তু ঋণ পরিশোধে আন্তরিক এবং যাদের অতীত লেনদেনের রেকর্ড ভালো, তাদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতাকে অতীতের সব আর্থিক দায় একসঙ্গে পরিশোধ করতে হবে। মূল অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত হলে তার ওপর আরোপিত ও অনারোপিত সুদ মওকুফ করা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। বিপুল পরিমাণ এই অর্থ ব্যাংক খাতে বড় চাপ তৈরি করেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, খেলাপি ঋণের একটি বড় অংশ ফেরত আনা সম্ভব হলে ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট কমবে এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। তবে একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে, যাতে এ সুবিধার অপব্যবহার না হয়।