
রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ১০ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৬ সালের ১ জুলাই সংঘটিত এই হামলা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলাগুলোর মধ্যে অন্যতম। ওই ঘটনায় বিদেশিসহ মোট ২২ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ইতালি, জাপান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এছাড়া হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা প্রাণ হারান এবং আহত হন আরও অনেকে।
২০১৬ সালের ১ জুলাই ছিল শুক্রবার। ইফতারের পরপরই অস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে কয়েকজন তরুণ গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে প্রবেশ করে অতিথিদের জিম্মি করে। খবর পেয়ে পুলিশ, র্যাব, সোয়াট, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলেন।
জিম্মিদের উদ্ধারে প্রথম দফায় অভিযান চালানোর সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল করিম ও বনানী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন খান নিহত হন। আহত হন আরও কয়েকজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।
পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে শুরু হয় ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’। কমান্ডো সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ১৩ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে ২০ জন জিম্মির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি, ১ জন ভারতীয় এবং ৩ জন বাংলাদেশি। দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২২ জনে।
হলি আর্টিজান হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার দুটি ধাপ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর হাইকোর্ট সেই সাজা পরিবর্তন করে সাত আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন।
হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য-প্রমাণ, স্বীকারোক্তি, ফরেনসিক, ব্যালিস্টিক, ডিএনএসহ বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে প্রমাণিত হয়েছে যে, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীনের উগ্র অংশ ‘নব্য জেএমবি’ এই হামলা চালায়। হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া পাঁচ জঙ্গি পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়।
বর্তমানে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ছয় দণ্ডিত আসামির করা আপিলের অনুমতির আবেদন আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এক দশক পেরিয়ে গেলেও হলি আর্টিজানের সেই ভয়াবহ রাত আজও দেশের মানুষের মনে গভীর বেদনা ও আতঙ্কের স্মৃতি হয়ে রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :