
ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুতে গরু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া রায়কে চ্যালেঞ্জ করেছে থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তামিলগা ভেত্রি কাঝাগম (টিভিকে) সরকার। রাজ্য সরকার এ বিষয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে।
বুধবার (১ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা আবেদনে তামিলনাড়ু সরকার দাবি করেছে, মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া রায় রাজ্যে বিদ্যমান গরু জবাই সংক্রান্ত আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একই সঙ্গে আদালত তার এখতিয়ার অতিক্রম করে রাজ্যের আইনসভার কাজে হস্তক্ষেপ করেছে বলেও অভিযোগ করেছে সরকার।
টিভিকে সরকারের আবেদনে বলা হয়েছে, গরু জবাইয়ের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে হাইকোর্ট ‘তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন, ১৯৫৮’-এর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছে। ওই আইনে বলা হয়েছে, ১০ বছরের বেশি বয়সী এবং কাজ বা প্রজননে অক্ষম গরু ও বাছুর নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে জবাই করা যেতে পারে।
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে মাদ্রাজ হাইকোর্ট ১৯৭৬ সালের একটি সরকারি আদেশ কার্যকর করে রাজ্যজুড়ে গরু ও বাছুর জবাইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। আদালত জানায়, উৎপাদন বৃদ্ধি ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ২৭ মে মাদ্রাজ হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এ সংক্রান্ত আদেশ দেন। বিচারপতি জি আর স্বামীনাথন ও বিচারপতি ভি লক্ষ্মীনারায়ণ জানান, পশু জবাই শুধু অনুমোদিত কসাইখানায় করা যাবে। পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্য সচিব ও জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের ঈদুল আজহাসহ অন্যান্য সময়ে গরু ও বাছুর জবাই ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই আদেশের পেছনে ছিল হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল ইন্দু মাক্কাল কাচ্চির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সূর্যের করা একটি আবেদন। আবেদনে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে গরু জবাই বন্ধে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল। মামলার শুনানিতে হাইকোর্ট ভারতের সংবিধানের ৪৮ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে। ওই অনুচ্ছেদে গরু, বাছুর এবং কৃষিকাজ ও দুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত পশু জবাই রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
আদালত আরও উল্লেখ করে, তামিলনাড়ু প্রাণী সংরক্ষণ আইনে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে কিছু গরু জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। তবে প্রয়োজনীয় প্রত্যয়ন ছাড়া গরু জবাই করা যাবে না। হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের আগের কয়েকটি রায়ের উল্লেখ করে আরও বলেছিল, ঈদুল আজহায় গরু কোরবানি ইসলামের অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন নয়। তবে তামিলনাড়ু সরকারের দাবি, হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্ত বিদ্যমান আইনি কাঠামোর সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।
আপনার মতামত লিখুন :