
বাংলা সংগীতের প্রবাদপুরুষ ও জীবন্ত কিংবদন্তি সৈয়দ আব্দুল হাদী-এর ৮৬তম জন্মদিন আজ। ১৯৪০ সালের ১ জুলাই কসবায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বিশেষ এই দিনে ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহশিল্পীদের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন বর্ষীয়ান এই সংগীতশিল্পী।
সৈয়দ আব্দুল হাদীর বাবা সৈয়দ আব্দুল হাই ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা। সংগীতপ্রেমী বাবার গ্রামোফোনে গান শুনতে শুনতেই ছোটবেলা থেকে সংগীতের প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি হয় তার। সেই আগ্রহ থেকেই গুনগুন করে গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় সংগীতচর্চা।
১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর বাংলা বিভাগে ভর্তি হন তিনি এবং সেখান থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এ শিক্ষকতা করেন। এছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশন-এ প্রযোজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে যুক্তরাজ্যের ওয়েলস ইউনিভার্সিটিতে প্রিন্সিপাল লাইব্রেরিয়ান হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।
প্লেব্যাক ও দেশাত্মবোধক গানের জন্য বিশেষভাবে খ্যাত সৈয়দ আব্দুল হাদী ১৯৬০ সালে ছাত্রজীবনেই চলচ্চিত্রে গান গাওয়া শুরু করেন। ১৯৬৪ সালে ডাকবাবু সিনেমায় মো. মনিরুজ্জামান-এর লেখা এবং আলী হোসেন-এর সুরে গাওয়া গানের মাধ্যমে একক কণ্ঠে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার।
বেতারেও সমান জনপ্রিয় ছিলেন এই শিল্পী। তার গাওয়া প্রথম আলোচিত বেতারের গান ছিল ‘কিছু বলো, এই নির্জন প্রহরের কণাগুলো হৃদয়মাধুরী দিয়ে ভরে তোলো’। এছাড়া সালাউদ্দিন জাকি পরিচালিত ঘুড্ডি-এর ‘সখি চলনা, সখি চলনা জলসা ঘরে এবার যাই’ গানটিও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
তার কণ্ঠে অমর হয়ে থাকা অসংখ্য গানের মধ্যে রয়েছে— ‘আছেন আমার মোক্তার, আছেন আমার ব্যারিস্টার’, ‘সূর্যোদয়ে তুমি সূর্যাস্তেও তুমি’, ‘যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে’, ‘একবার যদি কেউ ভালোবাসতো’, ‘এই পৃথিবীর পান্থশালায়’, ‘চলে যায় যদি কেউ বাঁধন ছিঁড়ে’, ‘এমনও তো প্রেম হয়’, ‘কারও আপন হইতে পারলি না’, ‘কেউ কোন দিন আমারে তো’, ‘যেও না সাথী’, ‘শূন্য হাতে আজ এসেছি’, ‘দুঃখ চির সাথীরে’, ‘আমি তোমারই প্রেম ভিক্ষারী’, ‘চক্ষের নজর এমনি কইরা’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি মাগো’, ‘কোন কিতাবে লেখা আছে’, ‘চোখ বুঝিলে দুনিয়া আন্ধার’, ‘তোমাদের সুখের এই নীড়ে’, ‘আউল বাউল লালনের দেশে’ ও ‘মনে প্রেমের বাত্তি জ্বলে’।
সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সৈয়দ আব্দুল হাদী পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। এছাড়া ২০০০ সালে তিনি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক লাভ করেন। দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা সংগীতকে সমৃদ্ধ করা এই কিংবদন্তি শিল্পী আজও দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অন্যতম উজ্জ্বল নাম।
আপনার মতামত লিখুন :