মুকসুদপুরে ইউএনও-ওসির নির্দেশ উপেক্ষা করে ফের কথিত কবিরাজি কার্যক্রম চালুর অভিযোগ


মুকসুদপুর প্রতিনিধি, মিরান গাজী   প্রকাশের সময় : জুন ২৮, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ
মুকসুদপুরে ইউএনও-ওসির নির্দেশ উপেক্ষা করে ফের কথিত কবিরাজি কার্যক্রম চালুর অভিযোগ

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার লোহাইড় পশ্চিমপাড়া গ্রামে কথিত কবিরাজ বৃষ্টি আক্তারের বিরুদ্ধে চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ আবারও উঠেছে। প্রশাসনের অভিযান ও নির্দেশনার পর কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও মাত্র ১৫ দিন পর পুনরায় সেই কথিত কবিরাজি কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃষ্টি আক্তার বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি, পারিবারিক জটিলতা ও সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করে আসছেন। এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন যে, “বাড়ি বন্ধ দেওয়ার জন্য ২১০০ টাকা এবং শিশুদের চিকিৎসার জন্য ৩৫০ টাকা করে নেওয়া হয়।”

অনুসন্ধানকালে তার ব্যবহৃত কক্ষে কোরআন শরীফের পাশাপাশি ত্রিশূল ও বিভিন্ন পূজার সামগ্রী দেখা যায়। এ বিষয়ে তার দাবি, “কালী, মহাদেব ও জিন তার সঙ্গে কথা বলে।” তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও এসব একসঙ্গে রাখা যায়।

এসব বক্তব্য ও কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত উল্লেখ করে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

এছাড়া সংবাদ সংগ্রহের সময় বৃষ্টি আক্তারের স্বামী আরমান মোল্লা সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেন এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এর আগে গত ৫ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আশিক কবির এবং মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ওই সময় কথিত কবিরাজি কার্যক্রম বন্ধ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম না চালানোর জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই নির্দেশ অমান্য করে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই আবারও একই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে আরমান মোল্লা সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ওসির নিষেধ সত্ত্বেও পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেছেন বলে স্বীকারোক্তি দেন।

তার এমন বক্তব্য ও কার্যক্রম এলাকায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় একই ধরনের কার্যক্রম চলতে থাকে, তবে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এলাকাবাসী ইউএনও ও থানার ওসির জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার না হন এবং এ ধরনের কথিত চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করা হয়।