
বিশ্বের তিনটি ভিন্ন অঞ্চলে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনার পর জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াতেও শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ভূমিকম্পের মধ্যে সরাসরি কোনো বৈজ্ঞানিক সম্পর্কের প্রমাণ নেই, তবুও ধারাবাহিক এ ঘটনাগুলো বিশ্বজুড়ে নতুন করে সতর্কতার বার্তা দিচ্ছে।
বুধবার (২৪ জুন) ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী কারাকাসের পশ্চিমে ক্যারিবীয় উপকূলীয় অঞ্চল।
প্রাথমিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় অন্তত ১৬৪ জন নিহত এবং ৯৭১ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ধসে পড়েছে বহু ভবন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে এখনও অভিযান চলছে। এছাড়া কয়েক দফা আফটারশকও অনুভূত হয়েছে, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টা পর জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের প্রাণহানি বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। জাপানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য আফটারশকের বিষয়ে সতর্ক রয়েছে।
একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের উত্তরাঞ্চলে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর কেন্দ্রস্থল ছিল মেনডোসিনো কাউন্টির রেডউড ভ্যালি এলাকার কাছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং হাজারো মানুষ সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার শিকার হয়েছেন। কিছু বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেলেও বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেনি।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলা, জাপান ও ক্যালিফোর্নিয়া—তিনটিই সক্রিয় টেকটোনিক অঞ্চলে অবস্থিত। ফলে সেখানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে বিশ্বের তিন অঞ্চলে বড় ধরনের কম্পন অনুভূত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।
বিশেষজ্ঞরা আফটারশকের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :