ভোলায় ধনিয়া খাল খনন করায় কৃষক ও জেলেদের মুখে হাসি


রুবেল হোসেন, ভোলা প্রতিনিধি​। প্রকাশের সময় : জুন ২৩, ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ
ভোলায় ধনিয়া খাল খনন করায় কৃষক ও জেলেদের মুখে হাসি

ভোলার ধনিয়া ইউনিয়নে ধনিয়া খালের পুনঃখনন স্থানীয় মানুষের জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দীর্ঘদিন পলি জমে ভরাট হয়ে থাকা খালটি পুনরায় খনন করায় কৃষক ও মৎস্যজীবী পরিবারগুলোর মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি। খালের নাব্যতা ফিরে পাওয়ায় বদলে যেতে শুরু করেছে এলাকার কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র।

ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের এই খাল দীর্ঘদিন ধরে ভরাট থাকায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকটে পড়তে হতো স্থানীয়দের। খননের পর এখন খালে পর্যাপ্ত পানি থাকায় কৃষকরা সহজেই তাদের জমিতে সেচ দিতে পারছেন। এতে রবিশস্য ও আমনসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয় চাষিরা।

ধনিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন বলেন, খালটি ভরাট থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ নানা সমস্যায় ভুগেছেন। এখন খননের ফলে কৃষকরা সেচ সুবিধা পাচ্ছেন এবং এলাকার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

স্থানীয় জেলেরা জানান, একসময় এই খাল ছিল তাদের জীবিকার অন্যতম উৎস। কিন্তু নাব্যতা হারানোর কারণে মাছ পাওয়া কমে গিয়েছিল এবং নৌকা চলাচলও বন্ধ হয়ে পড়েছিল। খাল পুনঃখননের ফলে আবারও ছোট-বড় নৌকা চলাচল শুরু হয়েছে এবং দেশীয় মাছের প্রজনন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে জেলেরা নিয়মিত মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাতে পারছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে খাল ভরাট থাকায় চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাওয়া যেত না। বর্ষায় অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকত। বর্তমানে খালটি পরিষ্কার ও গভীর হওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে এবং জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমেছে।

একজন স্থানীয় কৃষক বলেন, “আগে নৌকা নিয়ে খালে ঢোকা যেত না, মাছও পাওয়া যেত না। এখন খাল গভীর হওয়ায় আমরা আবার জাল ফেলে মাছ ধরতে পারছি, এতে আমাদের আয় বাড়ছে।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখা, কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যেই ধনিয়া খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে খালের নাব্যতা ধরে রাখতে স্থানীয়দের সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।