
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বগাইয়া উত্তর গ্রামে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১৮ দিন ধরে অবস্থান করছেন ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের বগাইয়া গ্রামের কয়েছ মিয়ার বাড়িতে গত ৩ জুন বিকেল থেকে অবস্থান করছেন ওই তরুণী। শুধু প্রেমিকের বাড়িতেই নয়, পরে তিনি কয়েছ মিয়ার চাচার ঘরেও অবস্থান নেন। এর মধ্যেই গত ৪ জুন কয়েছ মিয়া অন্য এক তরুণীকে বিয়ে করে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। কয়েছ মিয়া ওই এলাকার হাজি রফিক উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি সমাধানের জন্য দুই পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি বলে জানা গেছে।
অবস্থান নেওয়া তরুণীর দাবি, প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে কয়েছের সঙ্গে তার বিয়ের প্রস্তাব হয়েছিল। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কয়েছ তার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করেন। পরে সম্পর্ক থেকে সরে যাওয়ার পর পারিবারিক চাপে তিনি অন্যত্র বিয়ে করলেও সেই সংসার টেকেনি বলে দাবি করেন তিনি।
তরুণীর অভিযোগ, পরবর্তীতে কয়েছ তার ব্যক্তিগত ভিডিও তার স্বামীর কাছে পাঠান। এর ফলে তার দাম্পত্য জীবনে ভাঙন সৃষ্টি হয়। এ কারণেই তিনি বিয়ের স্বীকৃতির দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন। স্বীকৃতি না পেলে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। তরুণীর মা জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা হলেও প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
বিছনাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন শিহাব বলেন, দুই পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার বসার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে কোনো সমাধান হয়নি। পরে তিনি জানতে পারেন, কয়েছ অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে তুলেছেন। এ বিষয়ে কয়েছ মিয়া বলেন, “মেয়েটির সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল, কিন্তু এখন আমার অন্য বিয়ে হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় মেম্বাররা সমাধান করবেন।”
ইউপি সদস্য পাবলু মিয়া জানান, উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা হলেও কেউ সমঝোতায় আসেনি। বর্তমানে তরুণী কয়েছের চাচার ঘরে অবস্থান করছেন। গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :