
গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকা ঢাকনাবিহীন একটি ম্যানহোলে পড়ে মোছা. নাজমা খাতুন (২৪) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ম্যানহোল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
রোববার (২১ জুন) বিকেলে ভারী বৃষ্টির পর ভোগড়া বাইপাস এলাকায় সড়কের পাশে জমে থাকা পানির মধ্যে হাঁটার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নাজমা খাতুন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার লাংগলঝাড় এলাকার আব্দুল বারীর মেয়ে। তবে তিনি গাজীপুরে কোথায় বসবাস করতেন এবং কী কাজ করতেন, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে ভারী বৃষ্টির কারণে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাত পানিতে ডুবে যায়। এ সময় নাজমা খাতুন ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পানির নিচে থাকা একটি খোলা ম্যানহোলে পড়ে যান। পানির স্রোত ও ম্যানহোলের গভীরতার কারণে তিনি দ্রুত তলিয়ে যান। ঘটনাটি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে ভোগড়া মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর ম্যানহোল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ ও সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। বাসন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোখলেসুর রহমান বলেন, খোলা ড্রেনে পড়ে যাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহতের পরিচয় ও গাজীপুরে তার অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।
গাজীপুরে খোলা ড্রেন ও ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলে পড়ে মৃত্যুর ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই টঙ্গীর হোসেন মার্কেট এলাকায় ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলে পড়ে ফারিয়া তাছনিম জ্যোতি (৩২) নামে এক নারী নিখোঁজ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দীর্ঘ ৩৬ ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করে। ওই ঘটনার পর নগরীর খোলা ড্রেন ও ম্যানহোলের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। বিভিন্ন মহল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। তবে এরপরও বিভিন্ন এলাকায় অরক্ষিত ড্রেন ও খোলা ম্যানহোল থাকায় জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যস্ত সড়ক ও ফুটপাতসংলগ্ন ড্রেন-ম্যানহোল নিরাপদ রাখা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অনেক স্থানে খোলা ম্যানহোল, ভাঙা ড্রেন ও পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তাদের দাবি, নগরীর সব ঝুঁকিপূর্ণ ম্যানহোল ও ড্রেন দ্রুত চিহ্নিত করে ঢাকনা স্থাপন, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অবহেলার কারণে প্রাণহানির ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আপনার মতামত লিখুন :