উত্তরের যে চার জেলায় বন্যার আভাস


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২১, ২০২৬, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ
উত্তরের যে চার জেলায় বন্যার আভাস

দেশের অভ্যন্তরে টানা ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত এবং উজানে ভারতের অরুণাচল প্রদেশ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারি বর্ষণের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিন জানিয়েছেন, উত্তরাঞ্চলের এসব জেলায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। একই সঙ্গে সিলেট বিভাগেও বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৩টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। অথচ আগের দিন একই সময়ে পানি ছিল বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার নিচে। দ্রুত পানি বৃদ্ধির ফলে লালমনিরহাটের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কিছু ফসলি জমি ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে।

অন্যদিকে কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সিলেট অঞ্চলেও বন্যার আশঙ্কা বাড়ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ১৪০ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে স্বল্প সময়ে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের অন্যতম। শনিবার দুপুর পর্যন্ত আরও ৩৫ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ভারতের মেঘালয়সহ পার্শ্ববর্তী উজান অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। আগামী তিন দিনে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক স্থানে আগামী কয়েক দিন ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সঙ্গে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।