
রোববার (২১ জুন) সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রান্তের মৃত্যু হয়। এর আগে শনিবার (২০ জুন) বিকেলে তাকে মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে থেকে আটক করে ডিবি পুলিশ।
নিহত প্রান্ত মৃত এসকেন্দার হায়দারের ছেলে এবং ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, শনিবার সন্ধ্যার দিকে ডিবি পরিচয়ে একদল সদস্য প্রান্তকে বাড়ির সামনে থেকে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় তাকে মারধর করা হয় এবং পরে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করা হয়।
প্রান্তের মামা মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আটকের সময় প্রান্তকে মারধর করা হয়েছে। পরে পুলিশ তাকে কোথায় নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে পরিবারকে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।নিহতের মা খাদিজা আক্তার দাবি করেন, তার ছেলের কাছ থেকে কোনো মাদক উদ্ধার করা হয়নি। বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়ে কিছু পাওয়া যায়নি। সুস্থ অবস্থায় আটক করার পর কীভাবে তার মৃত্যু হলো, তার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের দাবি, শনিবার গভীর রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রান্তকে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে তিনি নাস্তা করেন এবং ফজরের নামাজ আদায় করেন। পরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে রোববার সকাল পৌনে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শিকদার আফ্রিদি রিজভী বলেন, সিটিস্ক্যানসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রান্তের মস্তিষ্কে ব্যাপক রক্তক্ষরণ ধরা পড়ে। প্রাথমিকভাবে তার শরীরে বাহ্যিক কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক প্রতিবেদনে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। তবুও ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :