এবার বিএনপিকর্মীকে ‘খেয়ে’ ফেলার হুমকি হানজালার


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২০, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ণ
এবার বিএনপিকর্মীকে ‘খেয়ে’ ফেলার হুমকি হানজালার

মাদারীপুরের শিবচরে একটি সালিশ বৈঠকে মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালার উত্তেজিত আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে তাকে টেবিল চাপড়ে এক বিএনপিকর্মীকে ধমক ও হুমকি দিতে দেখা যায়।

প্রায় এক মিনিটের ওই ভিডিওতে সংসদ সদস্যকে উত্তেজিত হয়ে উপস্থিত লোকজনকে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা যায়, ‘কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন?’ একপর্যায়ে তিনি টেবিল চাপড়ে বিএনপিকর্মী তারা মিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলব। চুপ করেন। আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দেব।’ ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, ঘটনাটি শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের চর বাচামারা মৌলভীকান্দি গ্রামের একটি সালিশ বৈঠকের। সেখানে স্থানীয় একটি মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের লোকজনের উপস্থিতিতে বৈঠক বসে। স্থানীয় সূত্র জানায়, সালিশে এক পক্ষকে এক লাখ টাকা জরিমানা নির্ধারণ করা হলে বিষয়টি নিয়ে হট্টগোল শুরু হয়। এ সময় সংসদ সদস্য উত্তেজিত হয়ে বিএনপিকর্মী তারা মিয়াকে ধমক দেন।

ভুক্তভোগী তারা মিয়া জানান, ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের। সালিশে বিচার চলাকালে তার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। তার অভিযোগ, এমপি একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তিনি এর প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে এক পক্ষকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়, যা ওই ব্যক্তির পক্ষে দেওয়া কঠিন বলে দাবি করেন তিনি। তারা মিয়া আরও বলেন, জনসম্মুখে সালিশ হলে উভয় পক্ষের কথা ও যুক্তি শোনা উচিত। ধৈর্য ধরে সবার বক্তব্য শোনা না হলে সেটি সঠিক বিচার প্রক্রিয়া থাকে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, বৈঠকে বক্তব্য দেওয়া নিয়ে একপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে এমপি হানজালা মেজাজ হারান। এ সময় উপস্থিত এক ব্যক্তি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করছিলেন। পরে ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে বলা হলে ধারণ করা অংশটি সেখানেই শেষ হয়।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা বলেন, ঘটনাটি এক থেকে দেড় মাস আগের। তিনি জানান, উভয় পক্ষের অনুরোধেই তিনি সালিশে যান। বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক হচ্ছিল এবং তারা বিষয়টি জটিল করার চেষ্টা করছিলেন। তখন তিনি ধমক দিয়েছেন বলে স্বীকার করেন। তবে তার দাবি, শেষ পর্যন্ত বিচার কার্যক্রম সুন্দরভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।