শ্বশুরবাড়ি থেকে নববধূর মরদেহ উদ্ধার


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২০, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
শ্বশুরবাড়ি থেকে নববধূর মরদেহ উদ্ধার

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় ফাহিমা আক্তার রিফা (১৮) নামে এক নববধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের সদস্যরা তাকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ তুললেও পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে রিফার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের সোমপাড়া গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ মার্চ সাহাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের তফদার বাড়ির বাসিন্দা মো. সালাউদ্দীনের মেয়ে ফাহিমা আক্তার রিফার সঙ্গে একই ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামের আমজাদ বেপারী বাড়ির মৃত কবির হোসেনের ছেলে ও সৌদি প্রবাসী ফয়সাল আহমেদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের সংসারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কলহ চলছিল বলে জানা গেছে।

শুক্রবার রাতে শ্বশুরবাড়ির নিজ কক্ষে রিফাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই রিফাকে বিভিন্নভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে ফয়সাল তাদের ফোন করে দ্রুত মেয়েকে নিয়ে যেতে বলেন। পরে রিফার সঙ্গে কথা বললে তাকে আতঙ্কিত মনে হয়। কিছু সময় পর তারা সেখানে পৌঁছে মেয়েকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

অন্যদিকে, নিহতের দেবর আকাশ জানান, সৌদি প্রবাসী বড় ভাই ফয়সাল আহমেদের ফোন পেয়ে তিনি রিফার কক্ষের সামনে যান। সেখানে গিয়ে ঘরের উভয় দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে রিফাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।