তরুণীকে হোটেলে ডেকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা, এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে জিডি


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২০, ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
তরুণীকে হোটেলে ডেকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা, এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে জিডি

চট্টগ্রাম মহানগরে পদ ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে হোটেলে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী চকবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে দলীয় পর্যায়েও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকায় একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন ভুক্তভোগী তরুণী।

জিডিতে অভিযুক্ত করা হয়েছে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দীন এবং জাতীয় নারী শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া আফরিনকে।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নিজেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী, এনসিপির কর্মী এবং চট্টগ্রাম মহানগর নারীশক্তির পদপ্রত্যাশী হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি দাবি করেন, গত ১৪ জুন সন্ধ্যায় নগরীর একটি হোটেলে দলীয় কমিটি গঠনসংক্রান্ত আলোচনার কথা বলে তাকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে রাজনৈতিক পদ-পদবি এবং চাকরির সুযোগের প্রলোভন দেখানো হয়। একপর্যায়ে তার সঙ্গে অশালীন আচরণ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাদিয়া আফরিনের আমন্ত্রণে তিনি হোটেলের রুফটপে যান, যেখানে এস এম সুজা উদ্দীনসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তাকে ধূমপান ও মদপানে উৎসাহিত করা হয় এবং বিভিন্ন ধরনের পানীয় গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পরবর্তীতে সাদিয়া আফরিন স্থান ত্যাগ করলে এস এম সুজা উদ্দীন তাকে নিজের পাশে বসার জন্য বারবার অনুরোধ করেন। তার আচরণ ও অঙ্গভঙ্গি আপত্তিকর ছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। রাজনৈতিক সুবিধা, পদ-পদবি এবং আর্থিক সহায়তার প্রলোভন দেখিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এস এম সুজা উদ্দীন ও সাদিয়া আফরিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট হোটেলের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ হোটেলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। তদন্ত কাজে হোটেল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে বলেও তিনি জানান। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।