চাঁদা না পেয়ে শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২০, ২০২৬, ৯:২৫ অপরাহ্ণ
চাঁদা না পেয়ে শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় চাঁদা না দেওয়ায় ক্রয় করা ভিটায় দোকান নির্মাণে বাধা এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষককে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে রতি মিয়ার বিরুদ্ধে। শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার আনোয়ারপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত রতি মিয়া উপজেলার দক্ষিণকুল গ্রামের বাসিন্দা এবং আনোয়ারপুর বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। তবে তিনি নিজেকে বিএনপির একজন সাধারণ কর্মী দাবি করে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

লাঞ্ছনার শিকার শিক্ষক মুক্তার হোসেন আনোয়ারপুর বাজার এলাকার বাসিন্দা এবং পাতারী তিওর জালাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

ভুক্তভোগী শিক্ষক মুক্তার হোসেন জানান, তিনি নিজ মালিকানাধীন একটি ভিটায় দোকান নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় উপজেলা প্রশাসন তার আগের দোকানটি উচ্ছেদ করেছিল। বর্তমানে বাজারের অন্যরা ঘর নির্মাণ শুরু করায় তিনিও দোকান নির্মাণের কাজ শুরু করতে চান। কিন্তু রতি মিয়া বারবার বাধা দিয়ে তার কাছে চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মুক্তার হোসেন বলেন, “চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় শনিবার সকালে আমাকে ডেকে নিয়ে ছাতা দিয়ে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়েছে। বিষয়টি আমি সংসদ সদস্য ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। সংসদ সদস্য পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করব।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রতি মিয়া বলেন, “আমি বিএনপির একজন কর্মী, আমার কোনো সাংগঠনিক পদ নেই। দুই বছর আগে এসিল্যান্ড ওই দোকান ভেঙে দিয়েছিলেন। এখন দোকান নির্মাণের বিষয়ে আমার সঙ্গে কথা হয়েছে, কিন্তু আমি তাকে মারধর করিনি কিংবা কোনো চাঁদা দাবি করিনি।”

এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুলেমান মিয়া বলেন, একজন সহকারী শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি আইনি পদক্ষেপ নিলে শিক্ষা বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে বালিজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বলেন, রতি মিয়ার বিএনপির কোনো পদ নেই। একজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষক তাদের উপস্থিতিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও লাঞ্ছনার অভিযোগ করেছেন। এ সময় থানার ওসিও উপস্থিত ছিলেন এবং সংসদ সদস্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।