গৃহকর্মীকে গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা, এএসআই দম্পতি গ্রেপ্তার


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৮, ২০২৬, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ
গৃহকর্মীকে গরম কড়াইয়ের ছ্যাঁকা, এএসআই দম্পতি গ্রেপ্তার

খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকায় এক কিশোরী গৃহকর্মীকে গরম কড়াই দিয়ে ছ্যাঁকা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন সোনাডাঙ্গা থানায় কর্মরত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সঞ্জয় মিত্র এবং তার স্ত্রী এএসআই পপি মিত্র। বৃহস্পতিবার সকালে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্ক সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানালা দিয়ে দেখতে পান, এক কিশোরী গৃহকর্মীর মুখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম কড়াই দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হচ্ছে। যন্ত্রণায় সে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে কান ধরে ওঠবস করানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেশীদের দাবি, হাত থেকে তরকারি পড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে গৃহকর্ত্রী পপি মিত্র ক্ষিপ্ত হয়ে ওই কিশোরীর ওপর নির্যাতন চালান। তারা আরও অভিযোগ করেন, সঞ্জয় মিত্র ও পপি মিত্র দীর্ঘদিন ধরে মেয়েটির ওপর শারীরিক নির্যাতন করে আসছিলেন। ভুক্তভোগীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে পুরোনো আঘাতের চিহ্নও পাওয়া গেছে, যা দীর্ঘদিনের নির্যাতনের ইঙ্গিত দেয়।

ঘটনার সময় স্থানীয়রা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী কিশোরীর মা নরসিংদী থেকে খুলনায় এসে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরপরই অভিযুক্ত পুলিশ দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। মানবাধিকার কর্মীরাও ঘটনাটিকে অত্যন্ত ন্যক্কারজনক উল্লেখ করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।