হোটেলে অন্য পুরুষের সঙ্গে স্ত্রীকে দেখলেন স্বামী, অতঃপর…


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৬, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
হোটেলে অন্য পুরুষের সঙ্গে স্ত্রীকে দেখলেন স্বামী, অতঃপর…

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় শাহাদাৎ হোসেন বাপ্পি (২৭) নামে এক যুবকের মরদেহ শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, দাম্পত্য কলহের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার কানুয়া এলাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে বাপ্পির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি উপজেলার ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর শিয়ালকাঠী গ্রামের শহিদ হাওলাদারের ছেলে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাপ্পির স্ত্রী হাফিজা আক্তার মীম বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি মীম রাজধানী ঢাকায় গিয়ে একটি হোটেলে অবস্থান করেন। ওই সময় মোবাইলের ভিডিও কলে স্ত্রীকে অন্য এক পুরুষের সঙ্গে দেখতে পান বাপ্পি। এরপর তাদের দাম্পত্য কলহ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, গত ১৪ জুন মীম বাবার বাড়িতে ফিরে এসে বাপ্পিকে সেখানে ডেকে নেন। এরপর সোমবার রাতে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়।

অন্যদিকে, হাফিজা আক্তার মীম দাবি করেন, রাতে খাবার শেষে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত দুইটার দিকে ঘুম ভেঙে স্বামীকে খুঁজে না পেয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। পরে তিনি তাকে নামিয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। তবে নিহতের মা রুবী বেগম এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তার ছেলেকে হত্যা করে আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তার অভিযোগ, পারিবারিক বিরোধ এবং অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনার পর নিহতের মা শ্বশুরবাড়িতে গেলে সেখানে তাকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ভাণ্ডারিয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা রত্নেশর কুমার মণ্ডল জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।