হত্যার পর স্ত্রীকে ঘরের আড়ায় ঝুলিয়ে রাখেন স্বামী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৬, ২০২৬, ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ
হত্যার পর স্ত্রীকে ঘরের আড়ায় ঝুলিয়ে রাখেন স্বামী

নড়াইলের লোহাগড়ায় স্ত্রীকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এক ব্যক্তি। তবে পুলিশের তৎপরতায় সেই নাটক বেশি দূর এগোয়নি। ঘটনার তদন্তে নেমে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ এবং অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করেছে।

সোমবার (১৫ জুন) রাতে উপজেলার দিঘলিয়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত লিমন মল্লিককে আটক করা হয়। মধ্যরাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায়। নিহত সুমনা ফেরদৌসী লোহাগড়া উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামের বাসিন্দা লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিমন মল্লিক হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় সুমনার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে ২০২১ সালে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর সুমনাকে নিয়ে নিজ বাড়িতে আসেন লিমন। তবে প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে আনার কারণে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে ভিডিও প্রকাশ এবং অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি ও বার্তা আদান-প্রদানকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ হতো। সোমবার সকালে একই বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে আবারও বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে লিমনের হামলায় সুমনা গুরুতর আহত হন। পরে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন অভিযুক্ত।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর উদ্দেশ্যে সুমনার মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরপর লিমন স্বাভাবিকভাবে কাজে চলে যান। বিকেলে বাড়ি ফিরে তিনি চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনেই আত্মহত্যার পরিবর্তে হত্যাকাণ্ডের আলামত পাওয়া যায়। পরে লিমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হলে তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।

পুলিশ পরিদর্শক অজিত কুমার রায় জানান, হত্যার পর আত্মহত্যা হিসেবে ঘটনাটি সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। নিহতের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।