
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (১৫ জুন) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘটিত এ ঘটনায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন সেলু মিয়া (৫৫) ও হেলাল মিয়া (৩৮)। তারা সংঘর্ষে গুরুতর আহত হলে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাহুবল উপজেলার সাতকাপন ইউনিয়নের আদিত্যপুর গ্রামের একটি কবরস্থানে বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রায় দুই মাস আগে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের জেরে গত শুক্রবারও উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মাইকিং করে দুই পক্ষের লোকজন স্থানীয় আদিত্যপুর হাওরে জড়ো হয় এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় ডুবাঐ বাজার এলাকায় আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয় এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে কদর আলী (৭০), লুৎফুর রহমান (৩০), আতাউর রহমান (২৫), কুহিনুর (৪১), জাহিদ মিয়া (৫৫), রিমন (১৮), অলফুজ মিয়া (৫০), খলিল মিয়া (৩০), সুহেল মিয়া (৩০), হাবিব মিয়া (২৫), সিমন (১৮) ও হান্নান (৫০) সহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া একজন নারীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে মো. সাইফুল ইসলাম জানান, দুপুরের সংঘর্ষের পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছিল। সন্ধ্যায় উভয় পক্ষকে সমাধানের জন্য থানায় আসার কথা থাকলেও পরে আবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা। বর্তমানে পুলিশ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে আদিত্যপুর ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আপনার মতামত লিখুন :