উদ্ধার হওয়া ইয়াবা গায়েব, বহনকারীকে ছেড়ে দেওয়া হয় ওসির নির্দেশে


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৬, ২০২৬, ৩:২৫ অপরাহ্ণ
উদ্ধার হওয়া ইয়াবা গায়েব, বহনকারীকে ছেড়ে দেওয়া হয় ওসির নির্দেশে

কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম নগরীতে আসার পথে পুলিশের এক সদস্যের কাছ থেকে এক লাখ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় মামলা না করে তা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রাম নগর পুলিশের একটি তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নগরীর বাকলিয়া থানা-পুলিশ ইয়াবাগুলো উদ্ধার করলেও পরে তা গায়েব করা হয়। এ ঘটনায় তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিনের নির্দেশে বহনকারীকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রতিবেদনটি গত ২৯ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত ওসির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় প্রায় ছয় মাস পার হলেও মামলা হয়নি। এমনকি তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী আত্মসাৎ হওয়া ইয়াবা উদ্ধার কিংবা অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তারও করা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা ঘটে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর। যার কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল, তার সঙ্গে আরেক ব্যক্তির কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

এরপর ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. ওয়াহিদুল হক চৌধুরীকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ। তদন্তে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর আট পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়।

বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন—উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আল-আমিন সরকার, এসআই মো. আমির হোসেন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সাইফুল আলম, এএসআই জিয়াউর রহমান, এএসআই সাদ্দাম হোসেন, এএসআই এনামুল হক, কনস্টেবল রাশেদুল হাসান ও কনস্টেবল উম্মে হাবিবা স্বপ্না।

তদন্তের সময় বাকলিয়া থানার ওসি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন আফতাব উদ্দিন। বর্তমানে তিনি কোতোয়ালি থানা, চট্টগ্রাম-এর ওসি হিসেবে কর্মরত আছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, উদ্ধার করা ইয়াবা জব্দ দেখিয়ে নিয়ম অনুযায়ী মামলা করার পরিবর্তে তা আত্মসাৎ করা হয়। পাশাপাশি ইয়াবা বহনকারী পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি আফতাব উদ্দিন। তিনি বলেন, “এই ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।” এ ঘটনায় পুলিশের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি ও মাদকবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।