
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ফলিমারী গ্রামে সাত বছরের শিশু নন্দিনী রায়ের হত্যাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার সকালে নিখোঁজ শিশুটির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ঘটনাস্থলে গেলে জনতার সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে জেলা পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকসহ অন্তত ১৬ জন আহত হন। এছাড়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) গাড়িসহ প্রায় ১০টি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ না করে পরিবারকে ফিরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হককে তাৎক্ষণিকভাবে ক্লোজড করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে প্রধান অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র ও রঞ্জিত কুমার রায়কে আটক করা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পৃথক মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি থমথমে অবস্থায় রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :