শাশুড়িকে গ্রেপ্তারের পর জামাইকে খুঁজছে পুলিশ, ঘটনা কী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৫, ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
শাশুড়িকে গ্রেপ্তারের পর জামাইকে খুঁজছে পুলিশ, ঘটনা কী

মাদারীপুরে মানবপাচারের একটি মামলায় কুলসুম বেগম (৪২) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মামলার প্রধান অভিযুক্তদের একজন এবং তার জামাই কুদ্দুস রহমান (৩৫) এখনও পলাতক রয়েছেন।

শনিবার (১৪ জুন) রাতে শিবচর উপজেলার কেরানীবাট এলাকা থেকে কুলসুম বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন রোববার (১৫ জুন) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তার কুলসুম বেগম শিবচর উপজেলার কেরানীবাট গ্রামের সামাদ খানের মেয়ে এবং মামলার আসামি কুদ্দুস রহমানের শাশুড়ি।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার চর খোয়াজপুর গ্রামের মৃত বজুল হাওলাদারের ছেলে সানাউল্লাহ (২২)-কে সরাসরি ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে কুদ্দুস রহমানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। এ জন্য প্রথমে ২০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর সৌদি আরব হয়ে তাকে লিবিয়ায় নিয়ে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, সেখানে সানাউল্লাহর ওপর নির্যাতন চালিয়ে তার ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। পরে মুক্তিপণের দাবিতে পরিবারের কাছ থেকে আরও ২০ লাখ টাকা আদায় করা হয়। আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে মোট ৪০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হলেও গত ছয় মাস ধরে সানাউল্লাহর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের আশঙ্কা, নির্যাতনের ফলে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

এ ঘটনায় গত ১ জুন সানাউল্লাহর দুলাভাই রনি খান বাদী হয়ে মাদারীপুরের মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালে কুদ্দুস রহমানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটি সদর মডেল থানায় নথিভুক্ত করা হয়।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, মানবপাচার মামলায় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অপর আসামিদের, বিশেষ করে পলাতক কুদ্দুস রহমানকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।