
প্রেমের কোনো ভৌগোলিক সীমানা নেই—এ কথার বাস্তব উদাহরণ তৈরি করেছেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের সাবেক লাউখোলা গ্রামের তরুণী সুবর্ণা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিক সলেমান। দুই বছর আগে আবুধাবির একটি পার্কে পরিচয়ের মাধ্যমে শুরু হওয়া সম্পর্ক পরিণতি পেতে যাচ্ছে বিয়ের মাধ্যমে।
সোমবার (১৫ জুন) তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন। এ বিয়েকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যান সুবর্ণা। সেখানে আবুধাবির একটি পার্কে সলেমানের সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় হয়। শুরুতে বন্ধুত্ব থাকলেও ধীরে ধীরে তা ভালোবাসায় রূপ নেয়। পরে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন এবং দুই পরিবারের সম্মতিতেই এই বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন হয়। রোববার রাতে তাদের গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। বিয়ের মূল অনুষ্ঠানে কনের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রায় দুই হাজার অতিথির আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর সলেমান পূর্বে বিবাহিত এবং তিনি তিন সন্তানের জনক। বিষয়টি সুবর্ণা ও তার পরিবার আগেই জেনেছেন। পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্মতির ভিত্তিতেই বিয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হচ্ছে। সুবর্ণা বলেন, “আমরা একে অপরকে পছন্দ করি। দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ে হচ্ছে। সবার কাছে আমাদের জন্য দোয়া চাই।”
বর সলেমান পেশাগত কারণে গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি বলে জানা গেছে। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত থাকায় ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য থেকে বিরত রয়েছেন। এ ব্যতিক্রমী বিয়েকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও চলছে আলোচনা ও কৌতূহল। অনেকেই এটিকে ভিন্ন সংস্কৃতি ও দেশের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। স্থানীয়রা আশা করছেন, পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে নবদম্পতির ভবিষ্যৎ জীবন সুখ-শান্তিতে কাটবে।
আপনার মতামত লিখুন :