
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় পুত্রবধূর পরকীয়া সম্পর্ক দেখে ফেলায় শাশুড়িকে হত্যার অভিযোগে হত্যা মামলার প্রধান আসামি কামাল পঞ্চায়েতকে (৫৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে তিনি ধরা পড়েন।
রোববার (১৪ জুন) রাত ৮টার দিকে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছোটকানুয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কামাল পঞ্চায়েত জিয়ানগর উপজেলার দক্ষিণ চণ্ডীপুর গ্রামের মৃত আবু পঞ্চায়েতের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ মে জিয়ানগর উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কলারণ গ্রামের বাসিন্দা নমিতা রানী পালকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। তিনি রাধেশ্যাম চন্দ্র পালের স্ত্রী। এ ঘটনায় পরদিন নিহতের স্বামী রাধেশ্যাম চন্দ্র পাল ইন্দুরকানী থানায় পাঁচজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তের শুরুতেই নিহতের পুত্রবধূ বন্যা রানী পাল (৩২) এবং তার মামা তাপস দেবনাথকে (৪৪) গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মামলার প্রধান আসামি কামাল পঞ্চায়েত ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্যা রানী পাল এবং কামাল পঞ্চায়েতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া সম্পর্ক চলছিল। এ সম্পর্ক নিয়ে শাশুড়ি নমিতা রানী পাল আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। ঘটনার দিন তিনি দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন। এরপর বিষয়টি গোপন রাখতে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার এড়াতে কামাল পঞ্চায়েত বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোহব্বত খান জানান, হত্যা মামলার প্রধান আসামি কামাল পঞ্চায়েতকে গ্রেপ্তারের পর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :