বরগুনায় একদিনে ৫ লাশ উদ্ধার


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৪, ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
বরগুনায় একদিনে ৫ লাশ উদ্ধার

বরগুনায় একদিনে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে গণপিটুনিতে মৃত্যু, ঝুলন্ত মরদেহ এবং রক্তাক্ত লাশ উদ্ধারের মতো একাধিক ঘটনা ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে বরগুনা সদর উপজেলার ১ নম্বর বদরখালী ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামে গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে ইব্রাহিম হোসেন কালু (সোনা বিশ্বাসের ছেলে) নিহত হন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি ‘কালু বাহিনী’র প্রধান হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং মাদক ও সন্ত্রাসবিষয়ক একাধিক মামলার আসামি ছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, মাত্র কয়েকদিন আগে জামিনে বের হয়ে তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন। এ ঘটনার পর উত্তেজিত গ্রামবাসী তাকে ধাওয়া করে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এরপর শনিবার (১৩ জুন) সকালে পাথরঘাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের একটি সড়কের পাশ থেকে রিকশাচালক মিজানুর রহমান (৪০)-এর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার স্ত্রী দাবি করেছেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

একই দিনে বরগুনা সদর উপজেলার আয়লা-পাতাকাটা ইউনিয়নের লেমুয়া গ্রামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক কলহ ও স্বামীর পরকীয়া এবং দ্বিতীয় বিয়ের জেরে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরিবারের সদস্যরা এটিকে হত্যা বলে দাবি করেছেন।

এছাড়া শনিবার বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের নলী এলাকার নিজ বাড়ি থেকে ৯৩ বছর বয়সী সালেহা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই দিনে বামনা উপজেলায় চাচার বাসা থেকে ১৭ বছর বয়সী কলেজছাত্র আবীরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এত অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক অপমৃত্যু ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বরগুনা জেলায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বরগুনা পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা বলেন, “ঘটনাগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। জেলা পুলিশ, ডিবি, সিআইডি এবং র‍্যাব সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কিছু ঘটনা আত্মহত্যা বলে মনে হলেও প্রতিটির পেছনে কোনো অপরাধমূলক কারণ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।