ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করিয়ে মায়ের মরদেহ ফেরত দিলেন চিকিৎসকরা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৪, ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করিয়ে মায়ের মরদেহ ফেরত দিলেন চিকিৎসকরা

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও স্বজনদের মধ্যে সংঘাতের ঘটনা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগের জেরে মৃত রোগীর মরদেহ প্রায় ১১ ঘণ্টা আটকে রাখা এবং পরে মরদেহ ফেরত দেওয়ার আগে ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রংপুর নগরীর নিউ জুম্মাপাড়া এলাকার নুরজাহান বেগম (৫৫) অসুস্থ হয়ে পড়লে তার ছেলে রিফাত হোসেন তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। স্বজনদের অভিযোগ, রোগীর জন্য দ্রুত অক্সিজেন চাইলেও ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা বলা হয়। এর কিছুক্ষণ পর রাত ৪টার দিকে নুরজাহান বেগমের মৃত্যু হয়।

রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসকদের সঙ্গে স্বজনদের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। চিকিৎসকদের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ রিফাত হোসেন দায়িত্বরত চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালান। অন্যদিকে স্বজনদের দাবি, চিকিৎসায় অবহেলার কারণেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ভোর থেকেই হাসপাতালের ডেড হাউজের সামনে অবস্থান নেন। তারা অভিযুক্ত রিফাতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত মরদেহ হস্তান্তর না করার ঘোষণা দেন। পরে সকাল থেকে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং দুপুর সোয়া ১২টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তালা দিয়ে তিন ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেন চিকিৎসকরা।

এদিকে মরদেহ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। কয়েক দফা চেষ্টা করেও তারা মরদেহ নিতে ব্যর্থ হন। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পরও মরদেহ নামিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

পরে বিকেল ৩টার দিকে রিফাত হোসেন হাসপাতালে এলে তাকে পরিচালকের কার্যালয়ের একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কান ধরে ১০ বার ওঠবস করে ক্ষমা চাইতে বলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপরই তার মায়ের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। রংপুর ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মিরাজ বলেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলার প্রতিবাদেই তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষমা চাওয়ার পর মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

অন্যদিকে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আশিকুর রহমান বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে চিকিৎসকের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে মরদেহ আটকে রাখা এবং ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনাকে তিনি ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ ও ‘নিন্দনীয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো অভিযোগ বা বিরোধের জেরে মরদেহ আটকে রাখা এবং একজন স্বজনকে প্রকাশ্যে অপমান করা কতটা আইনসম্মত ও মানবিক। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।