ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৪, ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ঘরে ঢুকে মা ও মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হামলায় গুরুতর আহত হয়েছে পরিবারের আরও এক শিশু সদস্য। শনিবার (১৩ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ওই এলাকার সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) ও তাদের মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। গুরুতর আহত হয়েছে একই পরিবারের শিশু পিয়াস বড়ুয়া (৫)। তাকে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে বাড়ি থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তারা ঘরের দরজার সামনে এনি বড়ুয়া ও তার ছেলে পিয়াসকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে ঘরের ভেতরে প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়।

প্রতিবেশীরা দ্রুত আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নিলে ঘটনাস্থলেই এনি ও প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার মৃত্যু হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় পিয়াসকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারিক সূত্র জানায়, নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া পেশায় একজন নিরাপত্তাকর্মী। তিনি চট্টগ্রাম নগরের খাতুনগঞ্জ এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন এবং ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন না।

ঘটনার পর সুজন বড়ুয়া দাবি করেন, প্রতিবেশী লিমন বড়ুয়া তেজপ্রিয়র সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেন ছিল। তার ধারণা, ওই লেনদেন-সংক্রান্ত কাগজপত্রের খোঁজে বাড়িতে গিয়ে হামলার ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।

সুজন বড়ুয়া বলেন, “আমি শহরে ছিলাম। রাতে বড় ভাইয়ের ফোন পেয়ে বাড়িতে এসে দেখি সব শেষ হয়ে গেছে।” তিনি আরও দাবি করেন, মৃত্যুর আগে তার স্ত্রী হামলাকারী হিসেবে লিমন বড়ুয়া তেজপ্রিয়র নাম উল্লেখ করেছিলেন। এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।