
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পোশাক শ্রমিক সাহেরা (১৭)-এর মৃত্যুর ঘটনায় স্বামীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৩ জুন) রাতে উপজেলার মৌচাক টাওয়ার মার্কেট এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রোববার (১৪ জুন) দুপুরে তাদের গাজীপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নিহতের স্বামী টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার গোবিন্দিয়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে শ্যামল মিয়া (২১), মৌচাক ডুলিপাড়া এলাকার পঞ্চন বর্মনের ছেলে রমেশ বর্মন (৩৫) এবং একই এলাকার বাড়ির মালিক আমিরুদ্দিনের ছেলে মানিক (৪০)।
পুলিশ জানায়, গত ১০ জুন সাহেরার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তার মা জাকিয়া বেগম বাদী হয়ে শ্যামল মিয়ার নাম উল্লেখ করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভাড়া বাসা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে টাঙ্গাইল থেকে স্বামীকে নিয়ে কালিয়াকৈরের ঢুলিগড়া টাওয়ার মার্কেট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন সাহেরা। তিনি একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তার স্বামী শ্যামল গাড়ির হেলপার হিসেবে কাজ করতেন।
ঘটনার দিন স্বামী দুপুরে বাসা থেকে বের হয়ে যান। পরে রাত আনুমানিক ২টার দিকে ফিরে এসে দেখেন ঘরের দরজা বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগানো এবং ভেতরে সাহেরা অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। তার গলায় কাপড় প্যাঁচানো ছিল বলে জানা যায়। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম পিপিএম বার জানান, নিহতের মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি এখন হত্যা মামলা হিসেবে তদন্তাধীন রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :