
চুয়াডাঙ্গায় অপহরণের ৯ দিন পর রাফিন (২২) নামের এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর এলাকার অর্জুন খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিহত রাফিন আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকি এলাকার সৌদি প্রবাসী আক্তার হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ব্যাটারিচালিত ভ্যানচালক ছিলেন। পরিবারের দাবি, মুক্তিপণের ১২ লাখ টাকা না দেওয়ায় তাকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে কুতুবপুর এলাকার অর্জুন খালে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে শনিবার সকালে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত শুক্রবার (৫ জুন) সকালে রাফিন তার ব্যাটারিচালিত পাখিভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
নিহতের দাদি আমেনা বেগম জানান, রাত ৮টার দিকে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে দাবি করা হয় রাফিন অপহৃত হয়েছেন। তাকে জীবিত ফেরত পেতে হলে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। পরে এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করা হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, অপহরণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের সময় রাফিনের অবস্থান জানতে চাইলেও তাদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি। বরং ফোনের অপর প্রান্ত থেকে তাকে মারধরের শব্দ শোনানো হয় বলে দাবি করেন তারা।
এদিকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে এটি অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড কিনা, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
আপনার মতামত লিখুন :