নিখোঁজের ঘটনায় নাটকীয় মোড়, আত্মগোপনে ছিলেন শিবির নেতা: পুলিশ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৩, ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ণ
নিখোঁজের ঘটনায় নাটকীয় মোড়, আত্মগোপনে ছিলেন শিবির নেতা: পুলিশ

কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধানকে অপহরণ করা হয়নি বলে জানিয়েছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ। বরং এক নারীর দায়ের করা ধর্ষণ ও অন্যান্য অভিযোগের পরিণতি এড়াতে তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন বলে দাবি পুলিশের।

শনিবার (১৪ জুন) রাতে কুমিল্লা জেলা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। পুলিশ জানায়, গত ১২ জুন জিসানের চাচাতো ভাই মো. রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, ১১ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে দাউদকান্দি বাজার এলাকা থেকে জিসান নিখোঁজ হন। এরপর জেলা পুলিশের একাধিক দল তাকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধান চালায়।

অনুসন্ধানে পুলিশ জানায়, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ২৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পুলিশের দাবি অনুযায়ী, গত ২০ মে দাউদকান্দির একটি ভাড়া বাসায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে একাধিকবার একই প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্কের ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন এবং পরে গর্ভপাত ঘটানো হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিয়ের চাপের মুখে জিসান ১২ জুন বিয়ের আশ্বাস দেন। কিন্তু তার আগের দিন ১১ জুন রাতে তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

এদিকে শুক্রবার (১৩ জুন) রাত পৌনে ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম জংশন সড়ক এলাকা থেকে স্থানীয়রা জিসানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। উদ্ধারের পর তিনি দাবি করেন, তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে এখন পর্যন্ত অপহরণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনার পর ওই নারী দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় জিসান মিয়াকে প্রধান আসামি করে মোট চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, সহযোগিতা, ভ্রূণ নষ্ট ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, “তদন্তে প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, তাকে কেউ অপহরণ করেনি। তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।