
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে পুশইনচেষ্টার শিকার তিন পরিবারের শিশুসহ ১২ জন দুই দিন ধরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে ১০ মাস থেকে ৪ বছর বয়সী তিন শিশু এবং একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী রয়েছেন। খোলা আকাশের নিচে পাটখেতে অবস্থান করায় মানবিক সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, শুক্রবার (১২ জুন) ভোর ৫টা থেকে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। শনিবারও তাদের অবস্থানের কোনো সমাধান না হওয়ায় অনিশ্চয়তার মধ্যে সময় কাটছে পরিবারগুলোর।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ জানায়, ওই ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই-বাছাই করে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ মানবিক কারণে কৌশলে শনিবার সকালে তাদের কাছে খাবার পৌঁছে দেন। খিচুড়ি নিয়ে তারা ভারতের দিকে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিএসএফ বাধা দেয়। পরে তারা ১৪৮/৩ এস সীমান্ত পিলারের কাছাকাছি ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় ৫০ গজ ভেতরে একটি পাটখেতের আইলে শিমুলগাছের নিচে আশ্রয় নেন। স্থানীয়রা রাতেও তাদের খাবারের ব্যবস্থা করেছেন বলে জানা গেছে।
বিজিবির প্রাগপুর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আসাদুজ্জামান জানান, শুক্রবার ভোরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্ত দিয়ে ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা এতে বাধা দেন। এরপর থেকেই তারা শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান করছেন।
তিনি আরও জানান, শুক্রবার দুই দফা পতাকা বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হলেও বিএসএফ তাতে সাড়া দেয়নি। শনিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিএসএফ দাবি করে, ওই তিন পরিবারের বাড়ি বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা ও খুলনা অঞ্চলে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারায় বিজিবি তাদের গ্রহণ করেনি। পরে বিএসএফ বিষয়টি আরও যাচাই করে সিদ্ধান্ত জানাবে বলে বৈঠক শেষ করে।
বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও মানবিক সহায়তা নিয়ে ওই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তবে দ্রুত সমাধান না হলে শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ পরিবারগুলোর দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :