৫৮ বছর পর পরিবারের সন্ধান পেলেন দেলোয়ার


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১১, ২০২৬, ১২:২৪ অপরাহ্ণ
৫৮ বছর পর পরিবারের সন্ধান পেলেন দেলোয়ার

প্রায় ৫৮ বছর আগে শৈশবে নিখোঁজ হওয়া দেলোয়ার হোসেন দুলাল চৌধুরী অবশেষে ফিরে পেয়েছেন নিজের জন্মপরিচয় ও পরিবারের সন্ধান। দীর্ঘ এই সময়ের পর চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল ইউনিয়নের কালিপুর চৌধুরী বাড়িতে ঘটেছে এক আবেগঘন ও চাঞ্চল্যকর পুনর্মিলনের ঘটনা।

পারিবারিক সদস্য ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৯ সালের দিকে মাত্র পাঁচ-ছয় বছর বয়সে দেলোয়ার হোসেন দুলাল নিখোঁজ হন। এরপর তিনি নারায়ণগঞ্জ হয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি এলাকায় একটি পালক পরিবারের আশ্রয়ে বড় হন। সেখানে স্নেহ-ভালোবাসায় বেড়ে উঠলেও নিজের প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে তিনি দীর্ঘদিন ছিলেন সম্পূর্ণ অজ্ঞ।

পরবর্তীতে তার ছেলে ইমাম হোসাইন আকিব বাবার পরিচয় খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন। কোরবানির ঈদের সময় পারিবারিক আলোচনায় বাবার শৈশবের কিছু অস্পষ্ট স্মৃতি—নদী, লঞ্চঘাট, কালিপুর বাজার—উঠে আসে। সেই সূত্র ধরেই শুরু হয় দীর্ঘ অনুসন্ধান। প্রযুক্তির সহায়তায় গুগল ম্যাপ, স্থানীয় ইতিহাস ও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয় মেঘনা নদীর তীরবর্তী চাঁদপুরের কালিপুর এলাকা।

পরে স্থানীয় সাংবাদিক ও গবেষকদের সহায়তায় কালিপুর চৌধুরী বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর দুলালের শৈশব স্মৃতির সঙ্গে এলাকার পুরোনো নিদর্শনগুলো মিলে যেতে থাকে। স্থানীয় প্রবীণরা জানান, একসময় ওই এলাকায় দুলাল নামের একটি শিশু নিখোঁজ হয়েছিল, যার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ডিএনএ ও পারিবারিক মিল যাচাইয়ের মাধ্যমে রক্তের সম্পর্ক নিশ্চিত হয়। বিশেষ করে তার জীবিত ভাই মুকুল চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাতের মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। দীর্ঘ ৫৮ বছরের বিচ্ছেদের অবসান ঘটিয়ে পুরো পরিবার কান্না, আবেগ ও আনন্দে ভেঙে পড়ে।

বর্তমানে দেলোয়ার হোসেন দুলাল চৌধুরী পুনরায় তার নিজ পরিবারে ফিরে এসেছেন এবং স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয়দের সঙ্গে নতুনভাবে জীবন শুরু করেছেন।

স্থানীয়রা এই ঘটনাকে একদিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার সমাপ্তি, অন্যদিকে এক বিরল মানবিক পুনর্মিলন হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এটি প্রমাণ করে যে সময় যতই পেরিয়ে যাক, রক্তের টান কখনোই সম্পূর্ণভাবে মুছে যায় না।