পৃথিবীতে ১০ মহাবিপদ ডেকে আনছে ‘সুপার’ এল নিনো


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১১, ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
পৃথিবীতে ১০ মহাবিপদ ডেকে আনছে ‘সুপার’ এল নিনো

তীব্র খরা, দাবানল ও অতিবৃষ্টির মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা জাগিয়ে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি আগামী নভেম্বর পর্যন্ত বা তারও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে। এ সম্ভাব্য সংকটকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘ জরুরি সতর্কতা জারি করেছে।

বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এল নিনো সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ। ইতোমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সুপার এল নিনো সক্রিয় হলে বৈশ্বিক সংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াগত প্রক্রিয়া, যা সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পরপর দেখা দেয় এবং প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী হয়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বায়ুচাপ, বায়ুপ্রবাহ এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শুধু আবহাওয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকেও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও উন্নয়ন অধ্যাপক বেঞ্জামিন সেলউইন সম্ভাব্য এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ১০টি বড় ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে—তীব্র খরা, বিশ্ব খাদ্য সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন, দাবানল, অতিবৃষ্টি ও বন্যা, কয়লা ব্যবহার বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ বিপর্যয়, মৎস্য সম্পদের ক্ষয়, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, হিট স্ট্রোকজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সামাজিক সংঘাত।

বিশ্লেষণে বলা হয়, এল নিনোর প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কৃষিনির্ভর অঞ্চলগুলোতে ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারে খাদ্য ও সার সংকট তৈরি হয়ে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

অধ্যাপক সেলউইনের মতে, এই সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়া জরুরি। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বৈশ্বিক সরবরাহ ও নীতিগত সমন্বয় ছাড়া এসব সমাধান দরিদ্র দেশগুলোর জন্য যথেষ্ট কার্যকর নাও হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই ‘সুপার এল নিনো’ বিশ্ব অর্থনীতি, পরিবেশ এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।