এল নিনোর প্রত্যাবর্তনের পূর্বাভাস, আরও উষ্ণ হতে পারে বিশ্ব


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ২, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
এল নিনোর প্রত্যাবর্তনের পূর্বাভাস, আরও উষ্ণ হতে পারে বিশ্ব

আসন্ন এল নিনো পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বকে আগাম সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মতে, এই আবহাওয়াগত পরিবর্তন ফিরে এলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বেড়ে যাবে এবং বন্যা, খরা ও চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

মঙ্গলবার (২ জুন) জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থা ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বরের আগেই এল নিনো গঠনের সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ। নভেম্বরের মধ্যে এই সম্ভাবনা বেড়ে ৯০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। সংস্থাটি বলছে, অধিকাংশ পূর্বাভাস মডেল মাঝারি মাত্রার এল নিনো নির্দেশ করছে, যা পরবর্তীতে আরও শক্তিশালী হতে পারে।

তবে কিছু বিজ্ঞানী এটিকে ‘সুপার এল নিনো’ হিসেবে আখ্যা দিলেও সংস্থাটি এ ধরনের শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এখনো পূর্বাভাসে অনিশ্চয়তা রয়েছে এবং বিভিন্ন মডেলের মধ্যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

সংস্থাটির মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, কিছু মডেলে শক্তিশালী এল নিনোর ইঙ্গিত মিললেও অন্য কিছু মডেল তেমন কোনো বড় পরিবর্তন দেখাচ্ছে না। তাই পরিস্থিতি এখনো নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন। এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এল নিনো পৃথিবীর উষ্ণতা আরও বাড়িয়ে দেবে এবং চরম আবহাওয়ার প্রভাবকে আরও তীব্র ও বিস্তৃত করবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনো সাধারণত কয়েক বছর পরপর দেখা দেয় এবং এটি প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী হয়। এ সময় প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট অঞ্চলের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়। সর্বশেষ ২০২৩-২৪ সালের এল নিনো ছিল রেকর্ড করা শক্তিশালী ঘটনাগুলোর একটি, যা বৈশ্বিক তাপমাত্রা নতুন রেকর্ডে পৌঁছাতে ভূমিকা রেখেছিল। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে কৃষি উৎপাদন, খাদ্য সরবরাহ ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনোর প্রভাবে দক্ষিণ আমেরিকা, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল এবং পূর্ব আফ্রিকায় অতিবৃষ্টি দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মধ্য আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে খরা ও শুষ্ক আবহাওয়া দেখা দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। জলবায়ু বিশ্লেষকদের মতে, চলমান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে এল নিনো যুক্ত হলে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে, যা বহু দেশের জন্য অর্থনৈতিক ও মানবিক চ্যালেঞ্জ ডেকে আনবে।