দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে ফিরছেন জেলেরা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১১, ২০২৬, ৬:১১ অপরাহ্ণ
দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে ফিরছেন জেলেরা

দীর্ঘ ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে নতুন স্বপ্ন, বুকভরা আশা আর ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা নিয়ে আবারও গভীর সমুদ্রে ফিরছেন ভোলার চরফ্যাশনের হাজারো জেলে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মধ্যরাত থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ায় সমুদ্রে মাছ ধরার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হচ্ছে। এতে নতুন করে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে জেলে, ট্রলার মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, সামুদ্রিক মাছের নিরাপদ প্রজনন ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে গত ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত সমুদ্রে মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষে চরফ্যাশনের প্রায় দেড় হাজার সমুদ্রগামী ট্রলার আবারও সাগরে নামবে। এসব ট্রলারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছেন প্রায় ১৮ হাজার জেলে।

দুই মাসের বেশি সময় মাছ ধরার সুযোগ না থাকায় অনেক জেলে আর্থিক সংকটে পড়েন। সংসারের খরচ চালাতে কেউ মহাজন কিংবা এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন, আবার কেউ বিকল্প পেশায় যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছেন। ফলে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার খবর তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

সমুদ্রগামী জেলে আ. রহিম বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় সংসার চালাতে ঋণ নিতে হয়েছে। এখন সমুদ্রে গিয়ে ভালো মাছ ধরতে পারলে সেই ঋণ শোধ করা সম্ভব হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবারের মৌসুমে ইলিশসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছের ভালো উৎপাদন হবে।

এদিকে দীর্ঘ বিরতির পর ট্রলারগুলোকে সাগরযাত্রার উপযোগী করতে ব্যস্ত সময় পার করেছেন মালিকরা। ট্রলারের ইঞ্জিন মেরামত, জাল প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরাজ মৎস্যঘাটেও ফিরে এসেছে কর্মব্যস্ততা। বরফকল, পরিবহন ও মাছ বিপণনের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরাও নতুন মৌসুমকে ঘিরে আশাবাদী।

ট্রলার মালিক সালাউদ্দিন বলেন, কয়েক বছর ধরেই লোকসানের মধ্যে রয়েছেন তারা। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং প্রত্যাশিত পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়লে ব্যবসায়ীরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি জেলেরাও তাদের আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। এর সুফল হিসেবে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ সম্ভব হয়। এখন জেলেদের প্রত্যাশা, সাগর থেকে ভরা জাল নিয়ে ফিরে এসে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন তারা।