
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাইক্রোবাসচালক ও যাত্রীর মধ্যে ভাড়া নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয়দের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণ, যানবাহন ভাঙচুর এবং অন্তত ৩০টি দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় ভৈরব বাস টার্মিনাল ও আশপাশের এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করতে হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাবের সহায়তায় মধ্যরাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার ভৈরবের দুর্জয় মোড় এলাকায় এক ব্যক্তি দুই নারীসহ একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করতে গেলে ভাড়া নিয়ে চালক পলাশের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি ওই যাত্রীর স্বজন এবং এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত অন্তর লাল ওরফে হুলুদের কাছে পৌঁছায়।
অভিযোগ রয়েছে, বুধবার দুপুরে অন্তর লাল ও তার সহযোগীরা চালক পলাশের বাড়ি এবং মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডের অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় মাইক্রোবাসচালকদের একটি দল অন্তর লালের মালিকানাধীন হোটেল ও শোরুমে ভাঙচুর করে। এর জের ধরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ এবং সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
আহতদের মধ্যে পরিবহন শ্রমিক নেতা সিয়াম ও তানভীরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ১৫ জন ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অন্যরা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ভৈরব থানার পুলিশ প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান শেলির নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। রাত ১২টার দিকে টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান শেলি বলেন, “ভাড়া নিয়ে পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে স্থানীয়দের হাতাহাতির জের ধরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আপনার মতামত লিখুন :