কবিরাজি ও জ্বীন তাড়ানোর বিজ্ঞাপনের ফাঁদে ভয়ংকর প্রতারণা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১০, ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ণ
কবিরাজি ও জ্বীন তাড়ানোর বিজ্ঞাপনের ফাঁদে ভয়ংকর প্রতারণা

ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা-কে ঘিরে আলোচিত বিয়ে-সংক্রান্ত মামলার রায় আজ বুধবার (১০ জুন) ঘোষণা করবেন আদালত। রায়ে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামিদের সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে এ রায় ঘোষণা করা হবে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, তামিমা সুলতানা তার পূর্ববর্তী বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে শেষ হওয়ার আগেই ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাসির ও তামিমার বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে একই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেন তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হোসেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে নাসির হোসেন, তামিমা সুলতানা এবং তামিমার মা সুমি আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। তবে তামিমার মা সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছরের বিচারিক প্রক্রিয়ায় এ পর্যন্ত ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এরপর চলতি বছরের মার্চে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। উভয় আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন এবং তাদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্যও উপস্থাপন করা হয়। সবশেষে গত ৬ মে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ের দিন ধার্য করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান দাবি করেন, উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং আসামিদের দণ্ড প্রদান করা উচিত। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ অস্বীকার করে খালাসের প্রার্থনা জানান।

আইনজীবীদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। মামলার মূল প্রশ্ন ছিল আগের বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে বহাল ছিল কি না এবং তালাকের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আলোচিত এ মামলার রায়ের দিকে এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।