‘পল্লি বিদ্যুতের অবহেলায়’ পুড়ল কৃষকের বসতঘরসহ ৪ গরু


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৯, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
‘পল্লি বিদ্যুতের অবহেলায়’ পুড়ল কৃষকের বসতঘরসহ ৪ গরু

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা-এ পল্লি বিদ্যুতের নষ্ট মিটার থেকে সৃষ্ট শর্ট সার্কিটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক কৃষকের বসতঘর, গোয়ালঘর এবং চারটি গরু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সোমবার (৮ জুন) ভোররাতে উপজেলার চর ওয়াপদা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সোহরাব কবিরাজ অভিযোগ করে বলেন, প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস আগে তার বিদ্যুৎ মিটারে ত্রুটি দেখা দেয়। এরপর থেকে প্রতি মাসে অস্বাভাবিকভাবে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা অতিরিক্ত বিল আসতে থাকে। তিনি বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ পল্লি বিদ্যুতায়ন বোর্ড-এর সুবর্ণচর জোনাল অফিসে চারবার লিখিত অভিযোগ দেন। তবে মিটার পরিবর্তনের পরিবর্তে তাকে মাসে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা “কাল্পনিক বিল” পরিশোধ করতে বলা হয় এবং পরে মিটার বদলে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস ধরে মিটারটি নষ্ট অবস্থায় থাকলেও কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এরই মধ্যে সোমবার ভোররাতে ওই ত্রুটিপূর্ণ মিটার থেকেই শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে তার দুটি বসতঘর, গোয়ালঘর, একটি মোটরসাইকেল, একটি সাইকেলসহ সম্পূর্ণ সম্পদ পুড়ে যায়। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হিসেবে তার খামারের চারটি গরুও আগুনে মারা যায়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সোহরাব কবিরাজ বলেন, “আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। পল্লি বিদ্যুতের অবহেলার কারণেই এই ক্ষতি হয়েছে। আমি ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চাই।”

অন্যদিকে সুবর্ণচর উপজেলা পল্লি বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম আরব আলী শেখ বলেন, “ঘটনাটি আমরা শুনেছি। তবে অভিযোগের কোনো কপি অফিসে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেছেন। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত বলা যাবে।”

এদিকে সুবর্ণচর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা মো. রুবেল মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভোররাতে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।