স্ত্রীকে হত্যা করে বাসায় তালা দিয়ে পালালেন ছাত্রদল নেতা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৯, ২০২৬, ৩:০৩ অপরাহ্ণ
স্ত্রীকে হত্যা করে বাসায় তালা দিয়ে পালালেন ছাত্রদল নেতা

সাভারে নিজ স্ত্রী রিয়া মনিকে (২১) হত্যার অভিযোগ উঠেছে সদ্য সাভার পৌর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়া নেতা রনি ইসলামের বিরুদ্ধে। সোমবার (৮ জুন) বিকেলে পৌরসভার ছায়াবীথি আমতলা এলাকার একটি ভবনের তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে রিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী রনি ইসলাম পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই ফ্ল্যাটে রনি ও রিয়া দম্পতি ভাড়া থাকতেন। গত কিছুদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে রিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং পরে ঘর তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যান রনি।

নিহতের মামা সাদ্দাম জানান, দেড় বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই রনির বিরুদ্ধে রিয়াকে মারধরের অভিযোগ ছিল। তিনি আরও দাবি করেন, রনি কোনো স্থায়ী কাজ করতেন না, ফলে সংসারের খরচ রিয়ার প্রবাসী বাবা-মাই বহন করতেন। সম্প্রতি রনির রাজনৈতিক পদ পাওয়ার খবরও পরিবারকে জানানো হয়েছিল।

তিনি বলেন, “রনিই আমার ভাগনিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।” নিহতের নানি জাহানারা বেগমও একই অভিযোগ করে বলেন, হত্যার পর রনি পালিয়ে গেছে এবং তারা ন্যায়বিচার চান। এদিকে ঘটনার পর থেকে রনির মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে এবং তিনি আত্মগোপনে আছেন বলে জানিয়েছে পরিবার ও স্থানীয়রা। অভিযুক্তের বাবা-মা সাভারের সোবহানবাগ এলাকায় বসবাস করেন বলে জানা গেছে।

সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রমজান আলী জানান, তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাভার মডেল থানার ওসি (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছে, তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।” এদিকে রাজনৈতিক পদধারী একজন নেতার বিরুদ্ধে এমন হত্যার অভিযোগ উঠায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।