জন্মদিন পালনের পর কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৯, ২০২৬, ২:৫৩ অপরাহ্ণ
জন্মদিন পালনের পর কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে জন্মদিন উদযাপন শেষে বাড়ি ফেরার পথে নাহিয়ান রবিন (২৪) নামে এক কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (৮ জুন) রাত সাড়ে ১২টার দিকে পৌরশহরের মাজার রোড মোড় এলাকায় এ নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।

নিহত রবিন স্থানীয় সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং পেশায় রাজমিস্ত্রী মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। তার এমন অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার রাতে বন্ধুদের নিয়ে ডাকবাংলো চত্বরে নিজের জন্মদিন উদযাপন করেন রবিন। কেক কেটে অনুষ্ঠান শেষ করে তিনি বন্ধু শাকিবুল হাসান মাসুমের মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে মাজার রোড মোড়ে পৌঁছালে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা ৬-৭ জন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত তাদের পথরোধ করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা প্রথমেই রবিন ও তার বন্ধুর চোখে-মুখে মরিচের গুঁড়ো ছিটিয়ে দেয়। এতে তারা দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেললে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রবিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। মাসুম কোনোভাবে দৌড়ে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পেলেও রবিন রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকেন। হামলাকারীরা তাকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোররাতে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আহত না হওয়া বন্ধু মাসুম বলেন, তারা আনন্দ করে কেক কেটে বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎই মুখোশধারী সশস্ত্র হামলাকারীরা তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং মরিচের গুঁড়ো ছিটিয়ে আক্রমণ করে। তিনি কোনোভাবে পালিয়ে বাঁচলেও রবিনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে জানান। নিহতের বাবা মোফাজ্জল হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এই ছেলেকে নিয়েই আমার সব স্বপ্ন ছিল। এখন সব শেষ হয়ে গেল। আমি এই হত্যার বিচার চাই।”

গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএসএম আতিকুর রহমান জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এখনো পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি বলে তিনি জানান। এদিকে নির্মম এ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।