
বগুড়া শহরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে সাবেক ইউপি সদস্য বিপুল চন্দ্র পালের (৪৮) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, শনিবার (৭ জুন) দুপুরে শহরের চারমাথা এলাকার সেঞ্চুরি হোটেলের ৬১০ নম্বর কক্ষ থেকে বিপুল চন্দ্র পালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি শুক্রবার রাত ৯টার দিকে এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে হোটেলে ওঠেন এবং একটি কক্ষ ভাড়া নেন।
হোটেল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও কক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া না গেলে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে বিকল্প চাবি দিয়ে দরজা খুলে বিপুল চন্দ্র পালকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হোটেল কক্ষ থেকে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, ঘুমের ওষুধ, কোমল পানীয় এবং পানির বোতল জব্দ করা হয়েছে। তবে এসব সামগ্রীর সঙ্গে মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে বিপুল চন্দ্র পালের সঙ্গে হোটেলে প্রবেশ করা নারী পরে একাই হোটেল ত্যাগ করেন। এই সূত্র ধরে দিনাজপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ তার কাছ থেকে ঘটনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে।
এদিকে নিহতের স্ত্রী লিপি রানী পাল দাবি করেছেন, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তিনি সারিয়াকান্দি উপজেলার এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগও তুলেছেন। তবে পরিবারের অন্য একজন সদস্য হোটেল কক্ষ থেকে ওষুধ উদ্ধারের তথ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ বলছে, ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :