স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর নিজেকে জখম, অতঃপর…


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৮, ২০২৬, ১২:৩৮ অপরাহ্ণ
স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর নিজেকে জখম, অতঃপর…

যশোর সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর একই ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিজের শরীরে আঘাত করে গুরুতর আহত হয়েছেন অভিযুক্ত স্বামী। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সোমবার (৮ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে যশোর সদর উপজেলার শেখহাটি তামালতলা এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত ছামিনা আক্তার (২০) তরফনওয়াপাড়া এলাকার শরিফুল ইসলামের মেয়ে। তার স্বামী সুজন (২৬) টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তারা শেখহাটি তামালতলা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে সুজন ধারালো ছুরি দিয়ে স্ত্রী ছামিনা আক্তারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর সুজন নিজের শরীরেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত হন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে একই হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং পুলিশি নজরদারিতে আছেন।

নিহতের মামা সম্রাট হোসেন জানান, প্রেমের সম্পর্কের পর প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে ছামিনা ও সুজনের বিয়ে হয়। তার দাবি, সুজন মাদকাসক্ত ছিলেন এবং এ কারণে দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই কলহ লেগে থাকত। একপর্যায়ে ছামিনা স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। পরে তারা যশোর শহরের শেখহাটি এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন।

তিনি আরও বলেন, সোমবার ভোরে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে সুজন ছামিনাকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে নিজের শরীরেও আঘাত করেন। যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। অভিযুক্ত স্বামী চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশি পাহারায় রয়েছেন। তিনি বলেন, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।