
রাজশাহী অঞ্চলে কৃষি উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে পদ্মা ব্যারাজ—এমনই আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কৃষি ও পানি উন্নয়ন খাতের কর্মকর্তারা। দীর্ঘদিন ধরে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হাজার হাজার হেক্টর জমির চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে কৃষকেরা প্রতি বছর বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ছেন।
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষা এবং সেচ ব্যবস্থাকে টেকসই করতে রাজবাড়ীর পাংশায় পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে কৃষি কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে রাজশাহী অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প কৃষকের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। তাদের মতে, ব্যারাজ নির্মিত হলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমে যাবে এবং নদীর পানি সেচের জন্য ব্যবহার করা যাবে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে পদ্মার শাখা নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শীতলীকরণ ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় পানির সরবরাহও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের মতে, এটি শুধু আঞ্চলিক প্রকল্প নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম একটি ‘গেম চেঞ্জার’ প্রকল্প হতে পারে। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, “ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আমরা এখন নদীর পানি সেচে ব্যবহার করতে পারব। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং খরচ কমবে।”
কৃষক পর্যায়ে এ প্রকল্প নিয়ে ইতোমধ্যে আশাবাদ দেখা দিয়েছে। গোদাগাড়ীর কৃষক আবু তাহের বলেন, পদ্মায় পানি থাকলে সেচ সংকট কমবে এবং চরের জমিতে চাষাবাদ সহজ হবে। একইভাবে বাঘার কৃষক আব্দুল বশির জানান, শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে তাদের চাষাবাদ ব্যাহত হয়, যা ব্যারাজ নির্মিত হলে অনেকটাই সমাধান হবে।
নদী গবেষকদের মতে, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোর পানিপ্রবাহ পুনরুজ্জীবিত হবে এবং সেচ ও পরিবেশ উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। প্রকল্পটির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ পানি সংরক্ষণ, নদী পুনরুদ্ধার এবং সীমিত পরিসরে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে পদ্মা ব্যারাজ রাজশাহী অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :