
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বড়ইউড়ি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে থানার ওসি ও পুলিশের সদস্যরাও আহত হন। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সোমবার (৮ জুন) দুপুরে ইউনিয়নের কালাইনজুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদ আহমেদ কিছুদিন আগে কারামুক্ত হওয়ার পর তার আগের পদে পুনর্বহাল হন। তবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া এবং স্থানীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিনের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। কফিল উদ্দিন স্থানীয়ভাবে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি হাইকোর্টের আদেশে ফরিদ আহমেদ পুনরায় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব ফিরে পান। তবে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম, বিশেষ করে ভিজিএফ চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। সোমবার সকালে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ভিজিএফ চাল বিতরণ শুরু করলে প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিনের সমর্থকরা বাধা দেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বানিয়াচং থানার ওসি শেখ নাজমুল হকসহ চারজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি পাঁচটি সাউন্ড গ্রেনেড ও তিন রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বানিয়াচং থানার ওসি শেখ নাজমুল হক বলেন, “ইউপি চেয়ারম্যানের পদ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আমিসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আপনার মতামত লিখুন :