বোরকা পরা নারীর সঙ্গে আবাসিক হোটেলে সাবেক ইউপি সদস্য, অতঃপর…


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৭, ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ
বোরকা পরা নারীর সঙ্গে আবাসিক হোটেলে সাবেক ইউপি সদস্য, অতঃপর…

বগুড়া শহরের চারমাথা এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য বিপুল চন্দ্র পালের (৪৮) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজে বিপুলের সঙ্গে বোরকা পরিহিত এক নারীকে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওই নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে শহরের সেঞ্চুরি মোটেলের ৬১০ নম্বর কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিপুল চন্দ্র পাল বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দুইবারের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি তিনি শাহ ফতেহ আলী পরিবহনে দীর্ঘদিন সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও হোটেল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিপুল চন্দ্র পাল মোটেলটিতে একটি কক্ষ ভাড়া নেন। পরদিন দুপুরে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও তিনি কক্ষ থেকে বের না হওয়ায় সন্দেহ হয় কর্তৃপক্ষের। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বজনদের উপস্থিতিতে কক্ষের দরজা খোলা হয়। এ সময় তাকে বিছানায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রাথমিকভাবে হোটেল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, বিপুল একাই কক্ষটি ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, রাতের দিকে এক বোরকা পরিহিত নারী তার সঙ্গে কক্ষে প্রবেশ করেন। পরে রাতের কোনো একসময় ওই নারী একাই কক্ষ ত্যাগ করেন বলে ফুটেজে দেখা গেছে। পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে যৌন উত্তেজক জাতীয় একটি সিরাপ, ঘুমের ওষুধ, কোমল পানীয় এবং পানির বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিহতের শরীরে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

এদিকে বিপুল চন্দ্র পালের পরিবার ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে। নিহতের স্ত্রী জানান, শুক্রবার রাতে শেষবার কথা হলে বিপুল তাকে বলেছিলেন, তিনি সারিয়াকান্দিতে একটি দাওয়াতে যাচ্ছেন। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। নিহতের মেয়ে তিথি অভিযোগ করে বলেন, তার বাবাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সিসিটিভিতে দেখা নারীর পরিচয় শনাক্তের দাবি জানান।

বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। একই সঙ্গে সিসিটিভিতে দেখা নারীর পরিচয় এবং পরিবারের অভিযোগে উল্লেখিত ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।