প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য প্রচার, এনসিপি নেতাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৪, ২০২৬, ৪:৩৯ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য প্রচার, এনসিপি নেতাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আনোয়ার হোসেনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলার অপর আসামি ইমন হোসেন জামিন পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল হক আনিসুল হক এ নির্দেশনা দেন। এদিকে, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় দৈনিক প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তেজগাঁও থানায় দায়ের করা একটি মামলায় (নং-২৪/৩৫২) আনোয়ার হোসেনকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করেছেন উত্তরা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ মিনহাজ উদ্দিন।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ মে যুবদল নেতা রুহুল আমিন বাদী হয়ে দণ্ডবিধি ও সাইবার সুরক্ষা আইনে রায়পুর থানায় মামলা দায়ের করেন। এর একদিন আগে, ৩০ মে রাতে উপজেলার সোনাপুর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে স্থানীয়দের মাধ্যমে আটক হওয়ার পর আনোয়ারকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় তাকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে।আনোয়ার হোসেন এনসিপির শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক এবং সোনাপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। মামলায় তার ভাই ইমন হোসেন, রুবেল হোসেন ও দিপুসহ অজ্ঞাত আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বাদী রুহুল আমিন, সোনাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। অভিযোগে বলা হয়েছে, আনোয়ার হোসেন তার ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর মন্তব্য প্রচার করেন। পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম লেখা একটি কাগজ পায়ের নিচে রেখে ছবি প্রকাশ করেন, যা সামাজিকভাবে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের কারণ জানতে চাইলে আনোয়ার ও তার সহযোগীরা বাদীসহ অন্যদের ওপর হামলা চালান এবং একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করেন। বাদী রুহুল আমিন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাদের ওপর হামলা করা হয়। এ কারণেই তিনি মামলা করেছেন।

অন্যদিকে, এনসিপির জেলা কমিটির সিনিয়র সদস্য সচিব আলমগীর হোসাইন দাবি করেন, প্রায় দুই হাজার লোক নিয়ে আনোয়ারের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। পরে তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও এ ধরনের হামলা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, আনোয়ারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আনোয়ারকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।