পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে আহত, গ্রেপ্তার ২ নারী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৪, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে আহত, গ্রেপ্তার ২ নারী

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে এক পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও দুইজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুই নারী হলেন উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের ইকবাল হোসেনের স্ত্রী লিজা আক্তার এবং নেয়ামুল কবিরের স্ত্রী শেফালী বেগম। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৩ জুন) রাত ১০টার দিকে উপজেলার রামচন্দ্রপুর পূর্বপাড়া এলাকায় একটি পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পাশাপাশি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে ঘটনাস্থলে তদন্তে যায় দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল।

পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর কয়েকজন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলার একপর্যায়ে দেবপুর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত কনস্টেবল মো. ফোরকানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।

আহত ফোরকানকে সহকর্মীরা উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ওসি লুৎফুর রহমান জানান, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মারামারির ঘটনায় ৯৯৯-এর কল পেয়ে পুলিশ সেখানে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা প্রদান, সরকারি দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও দুইজনকে আসামি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দুই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের ওপর হামলার এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।