
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় নিখোঁজের চার দিন পর মিন্টু খান (৪৫) নামে এক যুবদল কর্মীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) রাত ১টার দিকে উপজেলার কাউটে নগর বিল এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত মিন্টু খান আমুয়াবাইদ গ্রামের মজিদ মাস্টারের ছেলে। তিনি স্থানীয় যুবদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। পাশাপাশি গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার ‘জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফেব্রিক্স লিমিটেড’-এ কর্মরত ছিলেন। ঈদের ছুটি উপলক্ষে তিনি সম্প্রতি গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মে রাত থেকে মিন্টু খান নিখোঁজ ছিলেন। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। এতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
বুধবার রাতে স্থানীয়রা কাউটে নগর মাছুয়া বিলের একটি প্রায় পানিশূন্য স্থানে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পান। পরে তারা পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক শনাক্তের পর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখছেদুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রায় পানিশূন্য একটি খালের ভেতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ কচুরিপানা দিয়ে আড়াল করে রাখা ছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে স্থানীয় পাঁচজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে।
তবে তদন্তের স্বার্থে আটক ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে পরিচিত মুখ হওয়ায় মিন্টু খানের মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায়ীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
আপনার মতামত লিখুন :